বিশেষ প্রতিনিধি, বিশেষ প্রতিনিধি।।
অপারেশন সিঁদুর নিয়ে ভারতের লোকসভায় জোর বিতর্ক চলছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি নরেন্দ্র মোদি সরকারকে কোণঠাসা করার লক্ষ্যে একের পর এক প্রশ্ন তুলে আক্রমণ শানিয়ে চলেছে। এই বিতর্ক নিয়ে ভারতের অন্যতম বিরোধী দল কংগ্রেসের মধ্যেকার অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। আর তা নিয়ে বিজেপি কটাক্ষ করতে শুরু করেছে।
দলের সিনিয়র নেতা শশী থারুর কেন বিতর্কে অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখছেন না তা নিয়ে গুঞ্জনের মধ্যে আরেকজন সাংসদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট কংগ্রেসকে প্রবল অস্বস্তির মধ্যে ফেলেছে।
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং চণ্ডীগড়ের সাংসদ মণীশ তেওয়ারি মঙ্গলবার কেন তাকে এবং থারুরকে বিতর্কের জন্য বসিয়ে রাখা হয়েছে তার একটি সংবাদ প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট সমাজ মাধ্যমে এক্স হ্যান্ডলে শেয়ার করেছেন৷ পোস্টে পূর্ব অর পশ্চিম (১৯৭০) এর চিরসবুজ দেশাত্মবোধক গানের সাথে ক্যাপশন দিয়ে লিখেছেন: "হয় প্রীত জাহান কি রিত সাদা, মেন গান ওয়াহান কে গাতা হুঁ, ভারত কা রেহেনে ওয়ালা হুঁ, ভারত কি বাত সুনতা হুঁ। জয় হিন্দু।
সংসদের বাইরে তার পোস্ট সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে কংগ্রেস সাংসদ উত্তর দেন, ইংরেজিতে একটি কথা আছে, যদি তুমি আমার নীরবতা বুঝতে না পারো, তাহলে তুমি আমার কথা কখনোই বুঝতে পারবে না'।
গতকাল অপারেশন সিঁদুর বিতর্ক শুরু হওয়ার সময় কংগ্রেসের বক্তাদের তালিকায় থারুরের না থাকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সাবেক কূটনীতিক এবং অসাধারণ বাগ্মী থারুরের নাম তালিকায় না থাকা নিয়ে সংসদের বাইরে সংবাদমাধ্যম যখন তাকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে, তখন তিনি হাসিমুখে উত্তর দেন, ‘মৌনব্রত’।
সংবাদ মাধ্যম সূত্রে বলা হয়, থারুর বিতর্কের সময় দলীয় লাইন অনুসরণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং বলেছেন যে ‘দলীয় লাইনের জন্য’ তিনি নিজের বিরোধিতা করবেন না।
তবে মনীশ তেওয়ারি বিতর্কে অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখতে চেয়েছিলেন।
এবং থারুর, যারা সংসদ বিতর্কের জন্য কংগ্রেসের বক্তাদের তালিকায় নেই, তারা উভয়ই অপারেশন সিঁদুরের পরে নয়াদিল্লির বিশ্বব্যাপী প্রচারের অংশ হিসাবে বিদেশ ভ্রমণকারী ভারতীয় প্রতিনিধি দলের অংশ ছিলেন। ফতেহগড় সাহেবের সাংসদ অমর সিং, যিনি একটি প্রতিনিধি দলের অংশ ছিলেন, তিনিও তালিকায় নেই। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মা এবং সালমান খুরশিদ প্রতিনিধি দলের অংশ ছিলেন, কিন্তু তারা বর্তমান সাংসদ নন। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে মিঃ তেওয়ারি দলীয় নেতৃত্বের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন এবং বলেছিলেন যে তিনি কথা বলতে চান। কিন্তু তার সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়। কংগ্রেস নেতৃত্ব আশঙ্কা করেন যে, বিদেশে যাওয়া ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সরকারের উপর ততটা তীব্র আক্রমণাত্মক নাও হতে পারেন যতটা বিরোধী দল চাইছে।
উল্লেখ্য পেহেলগাম সন্ত্রাসী হামলা এবং ভারতের পাল্টা আক্রমণ অপারেশন সিঁদুরের পরে সাধারণ মানুষের মন্তব্য নিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে শশী থারুরের মতবিরোধ চলছিল। থারুর সম্প্রতি বলেছেন, তার ‘প্রথম আনুগত্য’ দেশের প্রতি। আর দল হলো দেশকে উন্নত করার একটি মাধ্যম। তাই আমার মনে হয়, আপনি যে দলেরই হোন না কেন, সেই দলের লক্ষ্য হলো নিজস্ব উপায়ে একটি উন্নত ভারত তৈরি করা।
এদিকে, কংগ্রেসের বক্তাদের তালিকা থেকে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বাদ দেয়ায় বিজেপি রাজনৈতিক সুযোগ নিয়েছে। বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা বৈজয়ন্ত জয় পান্ডা কংগ্রেসের সমালোচনা করে বলেন, দলটি থারুরকে কথা বলতে দিচ্ছে না। বিজেপি সাংসদ কংগ্রস নেতৃত্বের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের (কংগ্রেস) দলের বেশ কয়েকজন নেতা আছেন যারা ভালো বলতে পারেন…। আমার বন্ধু শশী থারুরজি, যিনি একজন ভালো বক্তা, তাকে তার দল বক্তৃতা দিতে দেয় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
থারুর ও তিওয়ারি দুই জনই বিদেশে ভারতের বক্তব্য তুলে ধরার জন্য পাঠানো বহুদলীয় প্রতিনিধি দলের সদস্য ছিলেন। তবে তারা কংগ্রেস দলের মনোনীত ছিলেন না। সরকার তাদের মনোনীত করেছিল। কংগ্রেসের মনোনীত সদস্য ছিলেন অমর সিং, সলমন খুরশিদ ও আনন্দ শর্মা। খুরশিদ ও শর্মা লোকসভার সদস্য নয়। অমর সিং সাংসদ হওয়া সত্বেও তাকেও বক্তার তালিকায় রাখা হয় নি।